অনলাইনে ছবি বিক্রি, ফটো তুলতে কে না পছন্দ করে! আর সে ছবি থেকে যদি আয় করা যায়, তাহলে কেমন হয়? ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইটে ফটো বিক্রি করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার উপায় সম্মন্ধে বিস্তারিত।

অনলাইনে ছবি বিক্রি সম্মন্ধে যা জানা জরুরি

অনলাইনে ফটো বিক্রি বলতে মূলত স্টক ছবি শক্তিস্তর করাকে বুঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু নানারকম ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে কাস্টম ফটোগ্রাফি করেও আয় করা যায়। এই পোস্টে আমরা শুধুমাত্র অনলাইন ফটো বিক্রির নিয়ম ও ফটো বিক্রির ওয়েবসাইট সম্মন্ধে জানবো।

অনলাইনে স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইটে পিকচার বিক্রি করে আয় করার জন্য হলে কতিপয় বিষয়ে প্রথমে থেকে জেনে রাখা জরুরি। এসব বিষয় সম্পর্কে শুরুতে জেনে নেওয়া যাক।

বেশিরভাগ স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইটে অ্যাপ্লাই করার পর এপ্রুভাল প্রসেস এর ভিতরে দিয়ে যেতে হয়। অর্থাৎ আপনি ইচ্ছা করলেই নিজের ইচ্ছামত ছবি আপলোড করে সেল করা চালু করার জন্য পারবেন না। নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট স্ট্যান্ডার্ড ও কোয়ালিটি না মিললে আপনার আবেদন অনুমোদিত হবেনা

স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলোতে নিজের ইচ্ছামত দাম সেট করার অপশন নেই। অর্থাৎ প্ল্যাটফর্ম প্রদত্ত নির্দিষ্ট দামে আপনার পিকচার বিক্রি হবে।

জনপ্রিয় স্টক ফটোগ্রাফি সাইটগুলো এক্সপোজার প্রদান করলেও অন্য অগণিত ক্রিয়েটরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। সুতরাং, আপনার কাজ অন্যদের চেয়ে চমৎকার না হলে ছবি বিক্রি করে আয়ের বিষয়টি মোটামুটি কঠিন লাগবে।

আবার স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলো কিন্তু আপনার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ আপনাকে প্রদান করবেনা। এটা অনেকটা পার্টনারশিপ এর মত কাজ করে। অর্থাৎ ইনকামের অংশ আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে ওয়েবসাইটগুলো।

অনলাইনে ফটো বিক্রি করে আয়ের সর্বসেরা ওয়েবসাইট

অনলাইনে নানারকম উপায়ে একাধিক প্ল্যাটফর্মে পিকচার বিক্রি করতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ইন্টারনেটে পিকচার বিক্রি করে আয় করার সর্বসেরা ওয়েবসাইট গুলো সম্পর্কে।

নিজের ওয়েবসাইট

নিজের ১টি ওয়েবসাইট খুলে ওই জায়গা আপনার ফটো বিক্রি করার জন্য পারেন। কিন্তু আপনার কাজের অনেক পরিচিতি না থাকলে নিজের ওয়েবসাইট খুলে ছবি বিক্রি করাটা পর্যাপ্ত কঠিন হতে পারে।

নিজের ওয়েবসাইটে ফটো বিক্রির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়া যায়। ফটোর প্রাইস নিজের ইচ্ছামত সেট করা যায়। আবার আয়ের সম্পূর্ণ অর্থ নিজের কাছে রাখা যায়, যেহেতু এইখানে কোনো থার্ড পার্টিকে কমিশন দেওয়ার জন্য হচ্ছেনা। আবার নিজের ওয়েবসাইটে যেহেতু সকল পিকচার আপনার থাকবে, একারণে এইখানে অন্তত কোনো প্রতিযোগিতা নেই।

শাটারস্টক

অনলাইনে ছবি বিক্রির জন্য শাটারস্টক বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ স্টক পিকচার সাইট। শাটারস্টক এর নিউ আরনিং নকশা অনুসারে ৩০ থেকে ৫০% লভ্যাংশ ক্রিয়েটরের সাথে শেয়ার করে থাকে।

শাটারস্টক হতে আপনার আয় অবলম্বন করবে আপনার কন্ট্রিবিউটর লেভেলের উপর, যা লাইসেন্সকৃত মোট ফটোর উপর নির্ভর করে। যেমনঃ প্রতি ডাউনলোডে ৪০% আয় করতে আপনার পিকচার অন্তুত ২৫হাজার বার ডাউনলোড হতে হবে।

তবে shutterstock.com এ কতিপয় বাধাধরা কানুন রয়েছে। প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে কন্ট্রিবিউটর লেভেল রিসেট হয়ে যায় ও ১৫% এ নেমে আসে আয়ের শেয়ার। সব মিলিয়ে প্রতি রয়্যালটি-ফ্রি ডাউনলোডের জন্য ০.২৫ডলার হতে ০.৫০ডলার পর্যন্ত আয় করার জন্য পারবেন একজন কন্ট্রিবিউটর।

এডোবি স্টক

বৃহৎ স্টক পিকচার ভেন্ডরগুলোর মধে এডোবি স্টক একটি। উল্লেখ্য যে অধিকাংশ এডোবি স্টক এর কাস্টমার কিন্তু ডিজাইনারগণ, যারা ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর বা প্রিমিয়ারে ব্যবহারের জন্য এডোবি স্টক প্রয়োগ করে থাকেন।

আপনার ছবি যিনি কিনছেন, তার সাবস্ক্রিপশন মডেলের উপর আপনার আয় অবলম্বন করে। জ্যেষ্ঠ সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের ইউজার পিকচার কিনলে সেক্ষেত্রে ০.৩৩ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন প্রতি ছবিতে। আবার ক্রেডিট প্যাক ইউজার যদি পিকচার ক্রয় করে সেক্ষেত্রে ৩.৩০ডলার পর্যন্ত আয় থেকে পারে প্রতি পারচেজে।

stock.adobe.com এ এক্সটেনডেড লাইসেন্স হিসেবে কাস্টম লাইসেন্সে ছবি বিক্রি হলে সেক্ষেত্রে প্রতি ফটো থেকেই ২৬.৪০ডলার পর্যন্ত আয় সম্ভব। তবে ভিডিও সেল করে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫৬ থেকে ৭০ ডলার আয় করা যায়। এছাড়া সাকসেস ক্রিয়েটরদের জন্য বোনাস প্রোগ্রাম হিসেবে ক্রিয়েটিভ ক্লাউড অ্যাপসের অ্যাকসেস দেওয়া হয়।

৫০০পিক্স

বিনামূল্যে অনলাইন পোর্টফোলিও তৈরি ও অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় আরম্ভ করার জন্য ৫০০পিক্স (500px.com) সেরা একটি ওয়েবসাইট হতে পারে। ইতিমধ্যে ১৬মিলিয়নের বেশি ফটোগ্রাফার ৫০০পিক্স এর সাহায্যে ছবি সেল করে থাকেন।

৫০০পিক্স এর ফ্রি পরিকল্পনা দ্বারা প্রতি সপ্তাহে মেক্সিমাম ৭টি ছবি আপলোড করা যায়। এর চেয়ে অধিক আপলোড করতে চাইলে সাবস্ক্রিপশন পরিকল্পনা কিনতে হবে। এই ওয়েবসাইট হতে নন-এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট এর জন্য ৩০% ও এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট এর জন্য ৬০% রেভিনিউ পাওয়া যাবে।

আইস্টক ও গেটিইমেজেস

আইস্টক (istockphoto.com) ও গেটিমেজেস (gettyimages.com) এর কন্ট্রিবিউটর এর ভিতরে অনেক মিল রয়েছে। যেমনঃ আইস্টক এর কন্ট্রিবিউটর প্রোগ্রামে গেটিইমেজেস এর সাহায্যে অ্যাপ্লাই করা যাবে। আইস্টক হতে ১৫% থেকে ৪৫% পর্যন্ত আয় করা যায়। এক্সক্লুসিভ কন্ট্রিবিউটর হতে পারলে সেক্ষেত্রে আয়ের অংক আরো বহু হতে পারে। উল্লেখ্য যে গেটিইমেজেস একমাত্র পেশাদার মানের হ্যালো কোয়ালিটি ছবি গ্রহণ করে। গেটি ইমেজেস হচ্ছে আইস্টকের প্যারেন্ট কোম্পানি।

পিকফেয়ার

অন্যসব স্টক ফটো ওয়েবসাই হতে পিকফেয়ার কিছুটা আলাদা। পিকফেয়ার এ আপনার ছবির ভ্যালু আপনি নিজেই সেট করার জন্য পারবেন ও আয়ের ১০০% রাখার জন্য পারবেন। অনেকটা পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এর সঙ্গে তুলনা করা যায় পিকফেয়ার কে।

তবে ফ্রি পিকফেয়ার একাউন্টের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফ্রি পিকফেয়ার একাউন্ট দ্বারা মেক্সিমাম ৫০টি ছবি আপলোড করা যাবে। আবার যিনি ছবি কিনছেন, তাকে ২০% ফি প্রদান করার জন্য হবে। কিন্তু পিকফেয়ার (picfair.com) প্লাস প্ল্যানের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা মুছে করা যেতে পারে।

ড্রিমসটাইম

ড্রিমসটাইম কন্ট্রিবিউটর প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে ২৫% হতে ৬০% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। আবার এক্সক্লুসিভ কন্ট্রিবিউটর থেকে পারলে সেক্ষেত্রে বাড়তি ১০% কমিশন পাওয়া যাবে। তবে এক্সক্লুসিভ কন্ট্রিবিউটর থেকে হলে কমপক্ষে ৫০টি এপ্রুভড ছবি থাকতে হবে।

ড্রিমসটাইম (dreamstime.com) সবচেয়ে কম দামে স্টক ইমেজ শক্তিস্তর করে, যার ফলে এই ওয়েবসাইটের কাস্টমার ও ট্রাফিক বেশি। এর মানে হলো ড্রিমসটাইম এর সাহায্যে দ্রুত শক্তিস্তর জেনারেট করে আয় সম্ভব। আবার আয়ের অংক বাড়ানো যায় এক্সটেনডেড লাইসেন্স এর মাধ্যমে।

বাংলাদেশী অনলাইনে ইনকাম সাইট ২০২৩